গণমানুষের সাথে
পোর্টাল: www.gonabarta.com | প্রিন্টের সময়: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
ভোগান্তির দুর্গ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর''
"
সময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে—তাহলে কি অন্যায়ের প্রতিকার পাওয়ার পথও বদলেছে?"
১৯৯৪ সালের কথা। সে বছর আমি ইন্টার পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষ করে জীবনে প্রথমবার বিমানে করে কক্সবাজার গিয়েছিলাম। বয়স কম, সদ্য বিবাহিত, নতুন অভিজ্ঞতা, আর পৃথিবীকে জানার সুযোগও ছিল না আজকের মতো এত সহজ করে।
সেই যাত্রায় এয়ারপোর্টে আমার স্বামীর ব্রিফকেস কেটে দামি কিছু জিনিসপত্র, পারফিউম এবং ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিজ্ঞতা ছিল না বিধায় কোথায় কীভাবে অভিযোগ করতে হয়, কীভাবে প্রতিকার চাইতে হয়—এসব জানার মতো তথ্যও হাতের কাছে ছিল না।
একটি বার ভাবুন তো কি ভয়ংকর অভিজ্ঞতা?
আজ প্রায় তিন দশক পর পৃথিবী অনেক এগিয়েছে। ইন্টারনেট আমাদের চোখের সামনে পুরো পৃথিবীকে এনে দিয়েছে। এখন অনেক ঘটনাই আমরা সরাসরি দেখতে পারি, তথ্য সংগ্রহ করতে পারি, সত্য-মিথ্যা যাচাই করার সুযোগও আগের চেয়ে অনেক বেশি।
কিন্তু এখানেই আমার একটি প্রশ্ন—
তখন অপকর্মগুলো অদৃশ্য ছিল, এখন সিস্টেমে চেঞ্জ হয়ে দৃশ্যমান হয়েছে।
আমরা যদি অন্যায় দেখতে পাই, তাহলে তার ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার চাওয়ার অধিকারও কি আমাদের থাকবে না?
কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। আমার কথা খুব সাধারণ—
অভিযোগ থাকলে সেটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক। সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর অভিযোগ ভুল হলে সেটিও পরিষ্কারভাবে জানানো হোক।
একজন সাধারণ ভুক্তভোগী মানুষ যখন কোনো অনিয়মের প্রতিবাদ করেন, তখন তিনি শত্রু কিংবা আক্রোশের শিকার হতে হচ্ছে কেন? তিনি চান তার কথা শোনা হোক। তিনি চান, তার সঙ্গে যা ঘটেছে তা যেন অন্য কারও সঙ্গে না ঘটে।
প্রতিবাদ আর বিশৃঙ্খলা এক জিনিস নয়।
প্রশ্ন করা আর অপমান করা এক জিনিস নয়।
জবাবদিহিতা চাওয়া আর কাউকে হেয় করা এক জিনিস নয়।
বরং একটি সুস্থ সমাজে নাগরিকের শান্তিপূর্ণ প্রশ্নকে সম্মান করা হয়, অভিযোগকে যাচাই করা হয় এবং প্রয়োজন হলে সংশোধনের ব্যবস্থা করা হয়।
আমরা সেটাই চাই। আমাদের চাওয়াটা খুব সামান্য।
আমরা কেউই চাই না, কোনো নির্দোষ মানুষ অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত হোক। একইভাবে এটাও চাই না যে প্রকৃত ভুক্তভোগী শুধু প্রতিবাদ করার কারণে আরও সমস্যার মুখোমুখি হোক।
তাই আমার বিশ্বাস—ব্যক্তিকে নয়, সমস্যাকে সামনে আনতে হবে; আবেগকে নয়, সত্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিশোধকে নয়, ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তি আমাদের অনেক কিছু দেখার চোখ দিয়েছে।আরো সোচ্চার হতে হবে
সত্য কথা বলার নিরাপদ পরিবেশ এবং সেই সত্য যাচাই করে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দৃঢ় ব্যবস্থাকে বাস্তবায়িত করতে হবে
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হোক দৃঢ়,
ভাষা হোক ভদ্র,
তথ্য হোক নির্ভুল,
আর উদ্দেশ্য হোক একটাই—
কারও ক্ষতি নয়, নিরাপত্তার জন্য একটি ভালো সমাজ আমাদের প্রয়োজন।লেখক লেখক তাসলিমা মালেক কেয়া।