গণমানুষের সাথে
পোর্টাল: www.gonabarta.com | প্রিন্টের সময়: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
"ঘড়ির কাঁটা" - আমার সময়
রাত তখন প্রায় সাড়ে বারোটা। টেবিলের উপর পড়ে থাকা একটা পুরনো ঘড়ি “টিক টিক” করে আওয়াজ তুলছিল। অর্ণবের চোখ পড়ল ঘড়িটার দিকে। একটা ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল মুখে— তুই তো এখনো ঠিকঠাক সময়টা দেখাস! এ ঘড়িটা তার বাবার পুরনো স্মৃতি। বাবার মৃত্যুর দিনও ঘড়িটার কাঁটা বন্ধ হয়নি। বাবা বলতেন, সময়কে যারা শ্রদ্ধা করে, সময়ও তাদের হাত ধরে সামনে এগিয়ে দেয়। কিন্তু অর্ণব সময়কে আর তেমনভাবে কখনো মানেনি। প্রতিটা পরীক্ষার আগেই সে ভেবেছে— একটু পরেই পড়ব… প্রতিটা কাজে বলেছে— “আগামীকাল থেকেই শুরু করব… এভাবেই দিন গেছে, মাস গেছে, বছরও কেটে গেছে— কিন্তু অর্ণবের জীবনে কিছুই বদলায়নি। একদিন হঠাৎ তার পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা হলো। সেই বন্ধু এখন বড় কোম্পানির অফিসার। হাসিমুখে বলল, তুই তো সবসময় আমার চেয়ে বেশি ট্যালেন্টেড ছিলি। এখন কী করছিস? অর্ণব মাথা নিচু করে বলল, কিছু না… এখনো খুঁজছি কোন পথে যাব। বন্ধুটা কাঁধে হাত রেখে বলল, ঘড়ির কাঁটা কিন্তু থেমে থাকে না ভাই। তুই থেমে আছিস বলেই তোর সময়টা হারিয়ে যাচ্ছে। সেই রাতে অর্ণব ঘরে ফিরে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল। টেবিলের ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে থাকল— সেই একই “টিক টিক” শব্দ, যেন প্রতি সেকেন্ডে তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, যে সময়কে অপচয় করে, সময়ও একদিন তাকে ফেলে যায়। হঠাৎ তার মনে পড়ল বাবার সেই কথা— সময়কে ধরতে পারলে, তোর জীবনও ঠিক সময়মতো ফুটে উঠবে। সেদিন রাত থেকেই অর্ণব বদলে গেল। ভোরে উঠে পড়াশোনা, কাজ, পরিকল্পনা— সব কিছু সময়মতো করতে শুরু করল। প্রতিটা ব্যর্থতাকে সে বলল, এটাও আমার সময়ের শেখানো পাঠ। বছর ঘুরে গেল। অর্ণব আজ একজন সফল উদ্যোক্তা। যে মানুষ একসময় দেরি করত, এখন সে সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্য দিতে জানে। একদিন তার কোম্পানির এক সেমিনারে একজন ছাত্র প্রশ্ন করল, স্যার, আপনার জীবনের মোড় কখন ঘুরেছিল? অর্ণব মুচকি হেসে বলল— যেদিন আমি ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দকে নিজের জীবনের ডাক হিসেবে শুনেছিলাম। তারপর সে একটু থেমে বলল, মনে রেখো, ঘড়ির কাঁটা থেমে গেলেও সময় থামে না। যারা সময়কে হারিয়ে ফেলে, তারা আসলে নিজের ভবিষ্যৎকেই হারিয়ে ফেলে। এক কথায়: ঘড়ির কাঁটা এখনো চলছে— অর্ণবের জীবনে, তোমার জীবনেও, সবার জীবনেই। প্রশ্ন শুধু একটাই— তুমি কি সময়কে ব্যবহার করছ, নাকি সময়ই ধীরে ধীরে তোমাকে পিছনে ফেলে যাচ্ছে?
লেখক: এম এস তরিকুল ইসলাম (ফারুক মিয়া)