গণমানুষের সাথে
পোর্টাল: www.gonabarta.com | প্রিন্টের সময়: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
সকালে শুধু চা আর রুটি খেয়ে দিন পার করছে গাজার শিশুরা
গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও কঠোর অবরোধের কারণে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশে বাধা, বাণিজ্যিক চালানে নিষেধাজ্ঞা এবং আকাশছোঁয়া দামের কারণে সন্তানদের মুখে পুষ্টিকর খাবার তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ফিলিস্তিনি মা-বাবারা। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে সকালে শুধু চা আর রুটি খেয়েই দিন পার করছে।
ঢাকাবুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ভিডিওলাইভ টিভিলাইভOpen sidebarআন্তর্জাতিক
৪৩ মিনিট আগেগাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও কঠোর অবরোধের কারণে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশে বাধা, বাণিজ্যিক চালানে নিষেধাজ্ঞা এবং আকাশছোঁয়া দামের কারণে সন্তানদের মুখে পুষ্টিকর খাবার তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ফিলিস্তিনি মা-বাবারা। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে সকালে শুধু চা আর রুটি খেয়েই দিন পার করছে।গাজা শহরের একটি তাঁবুতে পাঁচ মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন ৩০ বছর বয়সী হুদা আবু লায়লা। স্বামী যুদ্ধে আহত হওয়ায় কাজ করতে পারেন না, তাই রুটি বানিয়ে সামান্য যে আয় হয় তা দিয়েই সংসার চলে।
হুদা জানান, বাজারে এখন ডিম বা দুধ পাওয়া যাচ্ছে না, আর দাম বেশি হওয়ায় খাবার মজুত করারও সামর্থ্য নেই তাদের। বাধ্য হয়ে কোনো কোনো দিন স্থানীয় মশলা দিয়ে টিনজাত শিম, আবার যেদিন খাবার জোটে না সেদিন চায়ে রুটি ডুবিয়ে সন্তানদের খাওয়াচ্ছেন তিনি। পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তার বড় মেয়ে সালমা এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে যে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
একই অবস্থা বাস্তুচ্যুত মা রায়েদা সোবোহের। তার নয় সদস্যের পরিবার কয়েক মাস ধরে স্থানীয় গণরান্নাঘরের ওপর নির্ভরশীল। তিনি জানান, প্রায় আট মাস ধরে তাদের খাদ্যতালিকা থেকে দুধ, মাংস, ডিম এবং পনির পুরোপুরি বাদ পড়েছে। দীর্ঘসময় ধরে অপর্যাপ্ত খাবারের কারণে তার সন্তানেরা এখন সারাদিন দুর্বল ও ক্লান্ত বোধ করে।
এদিকে, তহবিলের ঘাটতির কারণে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) গাজায় তাদের খাদ্য সহায়তা এবং দৈনিক সরবরাহকৃত গরম খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বর্তমানে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গাজার শিশু ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ বি আলরাই সতর্ক করে জানান, দীর্ঘস্থায়ী খাদ্য নিষেধাজ্ঞার ফলে শিশুদের অপুষ্টি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রোটিনের অভাবে অনেক শিশুর পায়ে ফোলাভাব দেখা দিচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রতি মাসে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী প্রায় ৩ হাজার শিশুকে অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। দ্রুত সীমান্ত খুলে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে গাজার শিশুরা এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।